শনিবার, অক্টোবর ১৯

Exclusive: সব্যসাচীকে ফোন করে দল ছাড়তে বললেন ববি, নইলে অনাস্থা ভোট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগে তৃণমূলের কাউন্সিলরদের নিয়ে এক বৈঠকের পর দিদি তাঁকে সরাসরিই বলেছিলেন, তুই তৃণমূলে আছিস কেন, বিজেপি-তে চলে যা। সোমবার বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত-কে ফোন করে সেই কথাটাই পষ্টাপষ্টি বলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের খবর, সোমবার সব্যসাচীর সঙ্গে কথা বলেন পুরমন্ত্রী। তাঁকে বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলেন। সব্যসাচী একান্তই যদি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজি না হন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে ভোটাভুটি চাওয়া হবে।

রবিবার দুপুরে তৃণমূলের ৩৬ জন কাউন্সিলর সব্যসাচীর বিরুদ্ধে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। সেই বৈঠকে সব্যসাচীকে ডাকা হয়নি। তা ছাড়া বৈঠকের পর ববি হাকিম বলেছিলেন, দল বিরোধী কাজের জন্য সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। সেই সঙ্গে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, বিধাননগর পুরসভার কাজও আপাতত ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায় দেখবেন।

কিন্তু তার পর রাতে আবার দেখা যায়, সল্টলেকের এই সুইমিং ক্লাবে মুকুল রায়ের সঙ্গে নৈশভোজ করছেন সব্যসাচী। এ প্রসঙ্গে সোমবার ববি বলেন, “যে দল ভাঙছে, সব্যসাচী তাঁর সঙ্গে বসছে। যাওয়ার হলে চলে যাক। দু’নৌকায় পা দিয়ে চলা যায় না। সব্যসাচীর উচিত ছিল তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়ে এ সব করা।”
পুরমন্ত্রীর এ কথা নিয়ে আবার সব্যসাচীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমাকে এ সব তো কেউ কিছু বলেনি।” তিনি কী করবেন জানতে চাইলে বিধাননগরের মেয়র বলেন, “কী আবার করব? নিজের কাজ করে যাব”।
বস্তুত পুরমন্ত্রী হিসাবে সব্যসাচীর সঙ্গে ববিই বেশি যোগাযোগ রাখতেন। দু’জনের ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভাল ছিল। এখন সেই ববিকেই সব্যসাচী কাঁটা সরানোর দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে পুরমন্ত্রী নিজেই গোটা ঘটনাটা নিয়ে চাপে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: সারদা কাণ্ডে শতাব্দীকে তলব, দেবযানী-সুদীপ্তকে জেলে গিয়ে জেরা করতে পারে সিবিআই

সেই চাপ বলতে গেলে দু’রকম। এক, এতো কিছুর পরেও সব্যসাচী নিজে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজি নন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে সরাতে হবে। কিন্তু দ্বিতীয় সমস্যা হল, অনাস্থা প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে এখনও ষোলো আনা আত্মবিশ্বাস নেই তৃণমূলে। আশঙ্কা রয়েছে, ক্রস ভোটিংয়ে দলই না তাতে হেরে যায়।

এই পরিস্থিতিতে নিজের হতাশার কথাও এ দিন গোপন করেননি ববি হাকিম। পুরমন্ত্রীর কথায়, “ওঁকে অনেকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমিও হতাশ।” তিনি আরও বলেন, “ও আমার ভাইয়ের মতো, ওকে খুব স্নেহ করতাম। কিন্তু ও যা করছে তাতে আমি ব্যথিত ও অপমানিত। ”

তবে এ ব্যাপারে সব্যসাচীরও পাল্টা বক্তব্য রয়েছে। তাঁর কথায়, সুইমিং পুল ক্লাবে তিনি মুকুল রায়কে নেমন্তন্ন করেননি। ক্লাবের সদস্যরা তাঁকে ডেকেছিলেন। ক্লাবে যে কেউ আসতেই পারে। তা ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শিখিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গেও সৌজন্য বজায় রাখতে। ফলে কোনও দল বিরোধী কাজ তিনি করেননি।

শাসক দলের একটি সূত্রের দাবি, সব্যসাচী নাকি ববিকে কথা দিয়েছেন যে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেবেন। তবে দলের অনেক নেতার মতে, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে তৃণমূলকে প্রতি মুহূর্তে অস্বস্তিতে ফেলাই এখন সব্যসাচীর লক্ষ্য। মুকুল রায়ের বুদ্ধি এ সব করছেন উনি। সুতরাং, এ বার এসপার ওসপার হয়ে যাক। নইলে দলের বেইজ্জতি হচ্ছে। তাতে অনাস্থা ভোটে যদি উল্টো ফলও হয়, ক্ষতি নেই। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শুরু করে দেওয়া হোক।

Comments are closed.