শনিবার, অক্টোবর ১৯

রথ থামিয়ে মুসলমান কবিকে দর্শন দেন জগন্নাথ, পরম ভক্ত হয়ে যান সালবেগ

নবকুমার ভট্টাচার্য

শুধু জগন্নাথদেব নয় প্রভু বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাও দর্শন দিয়েছিলেন ভক্তকবি সালবেগকে। ভক্তকবি সালবেগের এই কাহিনি উৎকল সাহিত্যে বহুল প্রচলিত।

রথারূঢ় হয়ে যাত্রার মধ্য দিয়েও ভক্তের মহিমা প্রকাশ করে আনন্দ পান প্রভু জগন্নাথ। তাই তো তিনি রথ অচল করে অনেক সময় ভক্তের মাধ্যমে তাঁর মহিমা প্রকাশ করে থাকেন। এমন কি বিধর্মীকে দর্শন দিতেও তাঁর আপত্তি নেই।

তখন জাহাঙ্গীরের রাজত্বকাল। সেই সময়ে পুরীর সুবেদার ছিলেন মহম্মদ লালবেগ। এই লালবেগ এক হিন্দু বিধবা রমনীকে বিবাহ করেন। তাঁদেরই পঞ্চম সন্তান কবি সালবেগ। সালবেগ বালক অবস্থাতেই কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে মাতার আদেশে প্রভু জগন্নাথকে স্মরণ করে রোগ মুক্ত হন। প্রভু স্বপ্নে তাকে দর্শন দিয়ে রোগমুক্ত করেন।

এই অলৌকিক ঘটনার পরে সালবেগ জগন্নাথের পরম ভক্ত হয়ে যান। তাঁর মধ্যে অপরূপ কবিত্বশক্তির প্রকাশ ঘটে। যবন বলে তাঁর মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু কন্ঠের স্বর তো প্রভুর কাছে পৌঁছতে পারে। তাই অবিরত তিনি উচ্চকণ্ঠে ভাবাবিষ্ট হয়ে প্রভুর উদ্দেশ্যে সংগীত পরিবেশন করতেন। এটাই ছিল তাঁর সাধনা।

তিনি জানতেন, রথযাত্রার সময়ে প্রভু যখন গুণ্ডীচা বাড়িতে আসেন তখন সেখানে সেদিন আর কোনও জাতি ধর্মের ভেদ থাকে না। ভক্ত কবির প্রতীক্ষা সেদিন সফল হয়েছিল। কবির গৃহের সামনে অচল হয়েছিল রথের চাকা। বিশ্বাস করা হয়, প্রভু প্রাণভরে দর্শন দিয়েছিলেন তাঁর ভক্তকে।

আরও পড়ুন

রথ বানিয়েছেন মোল্লা ওমর ফারুক, সওয়ার হলেন জগন্নাথদেব

Comments are closed.